লিখেছেনঃ
2019-03-25BDT09:49 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় পড়বার সময় নিজেকে এতোটা লজ্জিত মনে হয়নি কোনো কারণে। আজ নিজের হল, শহীদুল্লাহ হলের সকালের ফুটেজ দেখে মনটাই খারাপ হয়ে গেল। বারবার মনে হচ্ছে, যে বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এনে দিতে পারে, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিজের হলে নিজ রুমে বসে টিয়ারশেলের ধোয়া খাচ্ছে! কি বিচিত্র সময় পার করছি আমরা? এই কি সেই বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে বাংলাদেশ নামক দেশটির জন্মস্বপ্ন সূচিত হয়েছিল? এখানেই কি স্বাধীন বাংলার প্রথম জাতীয় পতাকাটি উড়েছিল? এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই কি আন্দোলনে নেমে প্রাণ দিয়ে ভাষাটা ছিনিয়ে এনেছিল? প্রশ্ন জাগে হাজারো। জিজ্ঞেস করব কাকে? আজ, ৮ এপ্রিল, ২০১৮ তারিখ বিকাল থেকে শাহ্‌বাগে কোটা সংস্কারের জন্য বিরাট একটি ছাত্র জনতা সমাবেশ করে। এর মাঝে রাত আটটা নাগাদ পুলিশ রাবার বুলেট এবং শত শত টিয়ার শেল ছুড়ে মারে। এক পর্যায়ে বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। ইন্টারনেট এবং সেলুলার নেটওয়ার্ক বন্ধ করে। এর ফলে কয়েকজন ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়েছে, কয়েক ডজন নিরস্ত্র অসহায় ছাত্র হয়েছে আহত। রাত তিনটায় বিভিন্ন হলের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী মেয়েদের একাংশের উপর ইটবৃষ্টি হয়েছে, যার দায় দেওয়া হচ্ছে ছাত্রলিগের ওপর। এসব বাদ দিয়ে কিছু সুশীলের কাছে মমতার বিষয় হয়ে দাঁড়াল ভিসির বাসার আসবাবপত্রগুলো? আমিতো আজীবন ভিসির বাসার সামনে পুলিশি পাহারা দেখেছি। কই ছিল পুলিশ তখন? নাকি তারাও শাহ্‌বাগে যোগ দিতে গিয়েছিল?! ষাটের দশকে সৈয়দ মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর। দায়িত্ব পালনকালে ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখ আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হন। কথাগুলো পড়ে বুকটা ভরে যায় না? কিন্তু আজকে ঢাবির প্রক্টরের ভূমিকা কি ছিল? তিনি তার পদ এবং পদবির অবস্থান থেকে কোন কাজটা করেছেন? একটু ইতিহাস ঘেটে দেখুন তো, শেষবার কবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমস্ত বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল? আজকের সাথে মিলিয়ে দেখুন। কদিন পরে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করতে যাচ্ছি! ভাবতেই গা ঘিন ঘিন করছে! আজ পুলিশ কি পাকিসেনাদের সাথে গলা মেলালো না তবে? সংবাদ মাধ্যমগুলো কি হলের ভেতরে টিয়ারশেল আর লাঠিপেটার খবরগুলো সরাসরি সম্প্রচার করছে? কই আজকে তারা সব? আর আপনারা যারা একটা ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে জামাত-শিবির-মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী শক্তির বলে আখ্যা দিচ্ছেন, আজ কিন্তু তারা শেখ সাহেবের ছবি নিয়ে নেমেছিল। এর মধ্যে আমি কোন ছলচাতুরি দেখি না। প্রকাশ্যে মুজিবের ছবি নিয়েই তারা স্লোগান দিচ্ছিল। বঙ্গবন্ধু কোন গোষ্ঠীর একার নেতা না, সম্পত্তিও না। অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটা আগে পড়ুন। জানুন আপনার প্রিয় নেতার জীবনাদর্শ। তিনি কি এই ছাত্রসমাজ চেয়েছিলেন? আরেকটা কথা, কোনভাবেই এখানে আমি মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযোদ্ধাদের খাটো করে কিছু করতে দেখছি না। কেউ যদি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কিছু বলে বলে, সেটা আলাদা কথা। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সবার সম্মানের এবং অত্যন্ত আবেগের একটা বিষয়। একে ছোট করে দেখাবার কিছু নেই। মনে রাখবেন, কোটা সংস্কার আর কোটা বাতিল এক শব্দ নয়। ছাত্রলীগের সহস্র কর্মী এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। পুলিশের নির্মম গুলিতে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে কাতরাচ্ছে তারা। ২০০২ সালের ২৩ জুলাই মধ্যরাতে শামসুন্নাহার হলে মেয়েদের ওপর পুলিশ অশ্লীল-বর্বরোচিত আক্রমণ চালায়। সে সময়ে এর প্রতিবাদ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বর্তমানে ক্ষমতাসীন সকল রাজনৈতিক দলই তখন আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষনা করেছিলেন। আর ঠিক আজ তার পনেরো বছর পরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এ ন্যায্য আন্দোলনের বিরুদ্ধে কিছুক্ষণ আগে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করেছে। সেলিউকাস! ReformQuota হ্যাশট্যাগটা দিতে যাচ্ছিলাম। এ রাষ্ট্রের তন্ত্রে তন্ত্রে বিষ। এইসব ছোটলোকি কাজকারবারের জন্য আমরা কোনদিন জাপান, কানাডা অথবা সেরকম কিছু হতে পারব না, দেখে নিয়েন। আমার এদের কাছে আর কোনো প্রত্যাশা নেই। ২১৭ এপ্রিল ০৯, ২০১৮ ১০:০৭ পূর্বাহ্ন ১১ মাস পূর্বে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় পড়বার সময় নিজেকে এতোটা লজ্জিত মনে হয়নি কোনো কারণে। আজ নিজের হল, শহীদুল্লাহ হলের সকালের ফুটেজ দেখে মনটাই খারাপ হয়ে গেল। বারবার মনে হচ্ছে, যে বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এনে দিতে পারে, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিজের হলে নিজ রুমে বসে টিয়ারশেলের ধোয়া খাচ্ছে! কি বিচিত্র সময় পার করছি আমরা? এই কি সেই বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে বাংলাদেশ নামক দেশটির জন্মস্বপ্ন সূচিত হয়েছিল? এখানেই কি স্বাধীন বাংলার প্রথম জাতীয় পতাকাটি উড়েছিল? এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই কি আন্দোলনে নেমে প্রাণ দিয়ে ভাষাটা ছিনিয়ে এনেছিল? প্রশ্ন জাগে হাজারো। জিজ্ঞেস করব কাকে?

আজ, ৮ এপ্রিল, ২০১৮ তারিখ বিকাল থেকে শাহ্‌বাগে কোটা সংস্কারের জন্য বিরাট একটি ছাত্র জনতা সমাবেশ করে। এর মাঝে রাত আটটা নাগাদ পুলিশ রাবার বুলেট এবং শত শত টিয়ার শেল ছুড়ে মারে। এক পর্যায়ে বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। ইন্টারনেট এবং সেলুলার নেটওয়ার্ক বন্ধ করে। এর ফলে কয়েকজন ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়েছে, কয়েক ডজন নিরস্ত্র অসহায় ছাত্র হয়েছে আহত। রাত তিনটায় বিভিন্ন হলের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী মেয়েদের একাংশের উপর ইটবৃষ্টি হয়েছে, যার দায় দেওয়া হচ্ছে ছাত্রলিগের ওপর। এসব বাদ দিয়ে কিছু সুশীলের কাছে মমতার বিষয় হয়ে দাঁড়াল ভিসির বাসার আসবাবপত্রগুলো? আমিতো আজীবন ভিসির বাসার সামনে পুলিশি পাহারা দেখেছি। কই ছিল পুলিশ তখন? নাকি তারাও শাহ্‌বাগে যোগ দিতে গিয়েছিল?!

ষাটের দশকে সৈয়দ মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর। দায়িত্ব পালনকালে ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখ আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হন। কথাগুলো পড়ে বুকটা ভরে যায় না? কিন্তু আজকে ঢাবির প্রক্টরের ভূমিকা কি ছিল? তিনি তার পদ এবং পদবির অবস্থান থেকে কোন কাজটা করেছেন?

একটু ইতিহাস ঘেটে দেখুন তো, শেষবার কবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমস্ত বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল? আজকের সাথে মিলিয়ে দেখুন। কদিন পরে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করতে যাচ্ছি! ভাবতেই গা ঘিন ঘিন করছে! আজ পুলিশ কি পাকিসেনাদের সাথে গলা মেলালো না তবে?

সংবাদ মাধ্যমগুলো কি হলের ভেতরে টিয়ারশেল আর লাঠিপেটার খবরগুলো সরাসরি সম্প্রচার করছে? কই আজকে তারা সব?

আর আপনারা যারা একটা ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে জামাত-শিবির-মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী শক্তির বলে আখ্যা দিচ্ছেন, আজ কিন্তু তারা শেখ সাহেবের ছবি নিয়ে নেমেছিল। এর মধ্যে আমি কোন ছলচাতুরি দেখি না। প্রকাশ্যে মুজিবের ছবি নিয়েই তারা স্লোগান দিচ্ছিল। বঙ্গবন্ধু কোন গোষ্ঠীর একার নেতা না, সম্পত্তিও না। অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটা আগে পড়ুন। জানুন আপনার প্রিয় নেতার জীবনাদর্শ। তিনি কি এই ছাত্রসমাজ চেয়েছিলেন?

আরেকটা কথা, কোনভাবেই এখানে আমি মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযোদ্ধাদের খাটো করে কিছু করতে দেখছি না। কেউ যদি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কিছু বলে বলে, সেটা আলাদা কথা। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সবার সম্মানের এবং অত্যন্ত আবেগের একটা বিষয়। একে ছোট করে দেখাবার কিছু নেই। মনে রাখবেন, কোটা সংস্কার আর কোটা বাতিল এক শব্দ নয়।

ছাত্রলীগের সহস্র কর্মী এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। পুলিশের নির্মম গুলিতে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে কাতরাচ্ছে তারা। ২০০২ সালের ২৩ জুলাই মধ্যরাতে শামসুন্নাহার হলে মেয়েদের ওপর পুলিশ অশ্লীল-বর্বরোচিত আক্রমণ চালায়। সে সময়ে এর প্রতিবাদ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বর্তমানে ক্ষমতাসীন সকল রাজনৈতিক দলই তখন আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষনা করেছিলেন। আর ঠিক আজ তার পনেরো বছর পরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এ ন্যায্য আন্দোলনের বিরুদ্ধে কিছুক্ষণ আগে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করেছে। সেলিউকাস!

ReformQuota হ্যাশট্যাগটা দিতে যাচ্ছিলাম। এ রাষ্ট্রের তন্ত্রে তন্ত্রে বিষ। এইসব ছোটলোকি কাজকারবারের জন্য আমরা কোনদিন জাপান, কানাডা অথবা সেরকম কিছু হতে পারব না, দেখে নিয়েন। আমার এদের কাছে আর কোনো প্রত্যাশা নেই।


বিষয়ঃ সমসাময়িক | ট্যাগসমূহঃ রাজনীতি সমসাময়িক বাংলাদেশ [ ২১৭ ] 217 [ ০ ] 0
  • শেয়ার করুনঃ
পাঠিয়ে দিনঃ

ব্লগারঃ অর্বাচীন উজবুক

ব্লগ লিখেছেনঃ ৩১ টি
ব্লগে যোগদান করেছেনঃ ২ বছর পূর্বে

০ টি মন্তব্য ও প্রতিমন্তব্য

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করবার জন্য আপনাকে লগইন করতে হবে।
ব্লগের তথ্য
মোট ব্লগারঃ ৬৬ জন
সর্বমোট ব্লগপোস্টঃ ৯৩ টি
সর্বমোট মন্তব্যঃ ১২২ টি


ব্লগ | হিউম্যানস অব ঠাকুরগাঁও-এ প্রকাশিত সকল লেখা এবং মন্তব্যের দায় লেখক-ব্লগার ও মন্তব্যকারীর। কোন ব্লগপোস্ট এবং মন্তব্যের দায় কোন অবস্থায় 'ব্লগ | হিউম্যানস অব ঠাকুরগাঁও' কর্তৃপক্ষ বহন করবে না