লিখেছেনঃ
2019-08-26BDT08:51 আগামীকাল ১০ মে, ২০১৮ রোজ বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে মহাকাশে পারি জমাতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। তবে তা বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ১০ মে দিবাগত রাত প্রায় তিনটার দিকে অর্থাৎ ১১ মে তে পড়ে যাবে। সে যাক। যদিও এর মাঝে নানান কারণে কয়েকদফা সময় পেছাতে হয়েছে এবার সম্ভবত আর বিলম্ব হবে না ধরেই নিচ্ছি। প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ নিয়ে আমাদের উৎসাহ এবং  উত্তেজনার শেষ নেই। বিশ্বের ৫৭তম  নিজস্ব স্যাটেলাইটধারী দেশ হবে বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতির নাম ধারণ করে অসীম শূন্যে মাথা উঁচু করে ভেসে বেরাবে আমাদের নিজেদের স্যাটেলাইট, এ অতি আনন্দের ব্যাপার। পত্রপত্রিকা পড়ে যেসকল সুবিধার কথা জানলাম, তাতে আমি একটু হতাশ। সর্বপ্রথম নৈরাশ্যের বাণীটি বলি। আমার খুব ধারণা ছিল, সবগুলো সুবিধার মধ্যে সবথেকে বেশি সুবিধা হবে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথে। আমি কেন, আমার বয়সী সবারই এটাই প্রথম প্রত্যাশা হবার কথা। আমি খুব আশা করেছিলাম, একদিকে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ যেমন বাড়বে, অপরদিকে এই সেবার মান বাড়লে মোবাইল কোম্পানিগুলোও তাদের ডাকাতিতুল্য ডাটাপ্যাকের দামগুলো কমাবে। কিন্তু হায়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থেকে কমপক্ষে ১ হাজার ৪০০ মেগাহার্টজ পাওয়া গেলেও, ফাইবার অপটিক দিয়ে সরবরাহ করা ব্যান্ডউইডথের তুলনায় স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের খরচ প্রায় ১০০ গুণ বেশি হবার কারণে তা আমরা পাবই না! পুরোটাই বিক্রয়যোগ্য পণ্য হিশেবে ছেড়ে দিতে হবে!! যতটুকু বুঝলাম, প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করে বানানো এ স্যাটেলাইটের ব্যাবহার হবে মূলত DTH সেবায়। ফলে চ্যানেল সম্প্রচারকারী এবং গ্রহীতা দুই পক্ষের খরচটা কিছুটা কমবে। দেশে এই মুহূর্তে ৩০টার মতো স্যাটেলাইট চ্যানেল সম্প্রচার করে যাচ্ছে। চ্যানেল প্রচার খরচ কম হবার ফলে শুরু হবে নিত্যনতুন চ্যানেলের মানহীন সম্প্রচার। এক্ষেত্রে অর্ধেকের বেশি সংখ্যক ট্রান্সপন্ডার ভাড়া দিলেই বরং ভালো হবে। প্রথম আলোতে দেখলাম বলছে, 'ঝড় বা বড় ধরনের দুর্যোগে যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতেও কার্যকর হবে এ স্যাটেলাইট। এ ধরনের বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোবাইল নেটওয়ার্ক অনেক সময় অচল হয়ে পড়ে। তখন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব হবে।' এ বিষয়টা বায়বীয় লেগেছে। অনেকটা চোখে দেখা যায় না এমন। তারপরেও নৈরাশ্য দিয়ে লেখাটা শেষ করতে ইচ্ছে করছে না। ভালো দিক তো অবশ্যই আছে। আমরা আস্ত একটা স্যাটেলাইটের মালিক হতে চলেছি। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমাদের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিকভাবে খানিকটা উপরের সারিতে যাবে। ট্রান্সপন্ডারগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা ও ভাড়ার বিষয়টা তদারকি করতে পারলে ভালো পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। শেষ করি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মন্তব্যকারীর মন্তব্য দিয়ে, 'The best advantage would be to scavenge Sayedee in the moon. Hope BNP-Jamat would find him.'   ৩৩২ মে ০৯, ২০১৮ ১০:০৫ অপরাহ্ন ১ বছর পূর্বে

আগামীকাল ১০ মে, ২০১৮ রোজ বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে মহাকাশে পারি জমাতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। তবে তা বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ১০ মে দিবাগত রাত প্রায় তিনটার দিকে অর্থাৎ ১১ মে তে পড়ে যাবে। সে যাক। যদিও এর মাঝে নানান কারণে কয়েকদফা সময় পেছাতে হয়েছে এবার সম্ভবত আর বিলম্ব হবে না ধরেই নিচ্ছি। প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ নিয়ে আমাদের উৎসাহ এবং  উত্তেজনার শেষ নেই। বিশ্বের ৫৭তম  নিজস্ব স্যাটেলাইটধারী দেশ হবে বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতির নাম ধারণ করে অসীম শূন্যে মাথা উঁচু করে ভেসে বেরাবে আমাদের নিজেদের স্যাটেলাইট, এ অতি আনন্দের ব্যাপার।

পত্রপত্রিকা পড়ে যেসকল সুবিধার কথা জানলাম, তাতে আমি একটু হতাশ। সর্বপ্রথম নৈরাশ্যের বাণীটি বলি। আমার খুব ধারণা ছিল, সবগুলো সুবিধার মধ্যে সবথেকে বেশি সুবিধা হবে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথে। আমি কেন, আমার বয়সী সবারই এটাই প্রথম প্রত্যাশা হবার কথা। আমি খুব আশা করেছিলাম, একদিকে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ যেমন বাড়বে, অপরদিকে এই সেবার মান বাড়লে মোবাইল কোম্পানিগুলোও তাদের ডাকাতিতুল্য ডাটাপ্যাকের দামগুলো কমাবে। কিন্তু হায়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থেকে কমপক্ষে ১ হাজার ৪০০ মেগাহার্টজ পাওয়া গেলেও, ফাইবার অপটিক দিয়ে সরবরাহ করা ব্যান্ডউইডথের তুলনায় স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের খরচ প্রায় ১০০ গুণ বেশি হবার কারণে তা আমরা পাবই না! পুরোটাই বিক্রয়যোগ্য পণ্য হিশেবে ছেড়ে দিতে হবে!!

Bangabandhu-1 Satelite

যতটুকু বুঝলাম, প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করে বানানো এ স্যাটেলাইটের ব্যাবহার হবে মূলত DTH সেবায়। ফলে চ্যানেল সম্প্রচারকারী এবং গ্রহীতা দুই পক্ষের খরচটা কিছুটা কমবে। দেশে এই মুহূর্তে ৩০টার মতো স্যাটেলাইট চ্যানেল সম্প্রচার করে যাচ্ছে। চ্যানেল প্রচার খরচ কম হবার ফলে শুরু হবে নিত্যনতুন চ্যানেলের মানহীন সম্প্রচার। এক্ষেত্রে অর্ধেকের বেশি সংখ্যক ট্রান্সপন্ডার ভাড়া দিলেই বরং ভালো হবে।

প্রথম আলোতে দেখলাম বলছে, 'ঝড় বা বড় ধরনের দুর্যোগে যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতেও কার্যকর হবে এ স্যাটেলাইট। এ ধরনের বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোবাইল নেটওয়ার্ক অনেক সময় অচল হয়ে পড়ে। তখন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব হবে।' এ বিষয়টা বায়বীয় লেগেছে। অনেকটা চোখে দেখা যায় না এমন।

তারপরেও নৈরাশ্য দিয়ে লেখাটা শেষ করতে ইচ্ছে করছে না। ভালো দিক তো অবশ্যই আছে। আমরা আস্ত একটা স্যাটেলাইটের মালিক হতে চলেছি। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমাদের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিকভাবে খানিকটা উপরের সারিতে যাবে। ট্রান্সপন্ডারগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা ও ভাড়ার বিষয়টা তদারকি করতে পারলে ভালো পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে।

শেষ করি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মন্তব্যকারীর মন্তব্য দিয়ে, 'The best advantage would be to scavenge Sayedee in the moon. Hope BNP-Jamat would find him.'  


বিষয়ঃ সমসাময়িক | ট্যাগসমূহঃ সমসাময়িক জাতীয় সম্পদ [ ৩৩২ ] 332 [ ০ ] 0
  • শেয়ার করুনঃ
পাঠিয়ে দিনঃ

ব্লগারঃ অর্বাচীন উজবুক

ব্লগ লিখেছেনঃ ৩১ টি
ব্লগে যোগদান করেছেনঃ ২ বছর পূর্বে

০ টি মন্তব্য ও প্রতিমন্তব্য

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করবার জন্য আপনাকে লগইন করতে হবে।
ব্লগের তথ্য
মোট ব্লগারঃ ৬৬ জন
সর্বমোট ব্লগপোস্টঃ ৯৩ টি
সর্বমোট মন্তব্যঃ ১২২ টি


ব্লগ | হিউম্যানস অব ঠাকুরগাঁও-এ প্রকাশিত সকল লেখা এবং মন্তব্যের দায় লেখক-ব্লগার ও মন্তব্যকারীর। কোন ব্লগপোস্ট এবং মন্তব্যের দায় কোন অবস্থায় 'ব্লগ | হিউম্যানস অব ঠাকুরগাঁও' কর্তৃপক্ষ বহন করবে না