লিখেছেনঃ
2019-08-26BDT09:13 এখন মধ্যরাত। গত এক ঘন্টা ধরে বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। ঝুম বৃষ্টি। ঝুম বৃষ্টিতে ঝিম মেরে বসে থাকতে হয়। তানিয়া বেল্কনিতে ঝিম মেরে বসে আছে। ইদানিং সে প্রায় সময়ই ঝিম মেরে বসে থাকে। ক্লাসে, ক্যাম্পাসে, টিউশনিতে সব জায়গায়। কেউ কেউ এসে তখন জিজ্ঞেস করে, এতো কি ভাবিস? তানিয়া অবশ্য কিচ্ছুই ভাবেনা। ঝিম মেরে বসে থাকলেই কেন কাউকে কিছু ভাবতে হবে ? কিছু না ভেবেও যে ঘন্টার পর ঘন্টা ঝিম মেরে বসে থাকা যায়, তানিয়া তার প্রমান। আজ অবশ্য তানিয়া ভাবছে। আজ ভাবতে ভালোও লাগছে। খুব সম্ভবত মধ্যরাতের ঝুম বৃষ্টির সাথে ভাবনা জগতের কোনো যোগাযোগ আছে। গতকাল যখন রাস্তায় সবার সামনে বিজয় তাকে থাপ্পড় মারলো, তানিয়ার হটাত খুব মরে যেতে ইচ্ছে করছিলো। বিজয় যদি তৎক্ষণাৎ তাকে গলা টিপে মেরে ফেলতো, তানিয়া ক্ষমা করে দিতো। কিন্তু সেটা হলোনা। মরে যাওয়ার ইচ্ছে নিয়ে পুরো রাস্তা তার একা একা বাড়ি ফিরতে হলো। বাসায় এসে রুম বন্ধ করে সে অনেকবার পরিকল্পনা করলো, আত্মহত্যা করার। সিলিং ফ্যানে ওড়না পেচানো হলো। বিছানায় চেয়ার উঠানো হলো। গলায় ওড়না লাগানোর পর মনে হলো, বাচ্চাটা কেন মরবে ? তানিয়াদের বাসাটা সাততালায়। বেল্কনি থেকে অনেকদুর পর্যন্ত দেখা যায়। রাস্তার ল্যাম্পোস্টের আলোর নিচে বৃষ্টির ফোটাগুলোকে অতিপ্রাকৃত লাগছে। সেখানে একটা কুকুর চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। এতদুর থেকে বুঝার উপায় নেই, তাও হটাত তানিয়া নিশ্চিত হয়ে গেলো কুকুরটা মেয়ে। তার পেটে বাচ্চা। কুকুরটা চাচ্ছে আত্মহত্যা করতে। সৃষ্টিকর্তা তাকে আত্মহত্যা করার হুকুম দেননি বলে সে বেচে আছে। ইচ্ছে করলে সেও তো সিড়ি বেয়ে সাততালার ছাদে উঠে লাফ দিয়ে মরে যেতে পারে। বৃষ্টি এখন আর ঝুম অবস্থায় নেই। কিছুটা কমেছে। তবে ঠান্ডা বাতাস গায়ে লাগছে। মাঝে মাঝে দু একটা বজ্রপাত হচ্ছে। হটাত কারেন্ট চলে গেলো। ল্যাম্পোস্ট এখন আর জলছেনা। তাই কুকুরটাকেও দেখা যাচ্ছেনা। অন্ধকারে হটাত তানিয়ার মনে হলো কুকুরটা চিৎকার করে কাঁদছে। তার কান্না কেউ শুনছেনা। ৫৬৯ অগাস্ট ১২, ২০১৭ ০৭:০০ অপরাহ্ন ২ বছর পূর্বে

এখন মধ্যরাত। গত এক ঘন্টা ধরে বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। ঝুম বৃষ্টি। ঝুম বৃষ্টিতে ঝিম মেরে বসে থাকতে হয়। তানিয়া বেল্কনিতে ঝিম মেরে বসে আছে। ইদানিং সে প্রায় সময়ই ঝিম মেরে বসে থাকে। ক্লাসে, ক্যাম্পাসে, টিউশনিতে সব জায়গায়। কেউ কেউ এসে তখন জিজ্ঞেস করে, এতো কি ভাবিস? তানিয়া অবশ্য কিচ্ছুই ভাবেনা। ঝিম মেরে বসে থাকলেই কেন কাউকে কিছু ভাবতে হবে ? কিছু না ভেবেও যে ঘন্টার পর ঘন্টা ঝিম মেরে বসে থাকা যায়, তানিয়া তার প্রমান। আজ অবশ্য তানিয়া ভাবছে। আজ ভাবতে ভালোও লাগছে। খুব সম্ভবত মধ্যরাতের ঝুম বৃষ্টির সাথে ভাবনা জগতের কোনো যোগাযোগ আছে।

গতকাল যখন রাস্তায় সবার সামনে বিজয় তাকে থাপ্পড় মারলো, তানিয়ার হটাত খুব মরে যেতে ইচ্ছে করছিলো। বিজয় যদি তৎক্ষণাৎ তাকে গলা টিপে মেরে ফেলতো, তানিয়া ক্ষমা করে দিতো। কিন্তু সেটা হলোনা। মরে যাওয়ার ইচ্ছে নিয়ে পুরো রাস্তা তার একা একা বাড়ি ফিরতে হলো। বাসায় এসে রুম বন্ধ করে সে অনেকবার পরিকল্পনা করলো, আত্মহত্যা করার। সিলিং ফ্যানে ওড়না পেচানো হলো। বিছানায় চেয়ার উঠানো হলো। গলায় ওড়না
লাগানোর পর মনে হলো, বাচ্চাটা কেন মরবে ?

তানিয়াদের বাসাটা সাততালায়। বেল্কনি থেকে অনেকদুর পর্যন্ত দেখা যায়। রাস্তার ল্যাম্পোস্টের আলোর নিচে বৃষ্টির ফোটাগুলোকে অতিপ্রাকৃত লাগছে। সেখানে একটা কুকুর চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। এতদুর থেকে বুঝার উপায় নেই, তাও হটাত তানিয়া নিশ্চিত হয়ে গেলো কুকুরটা মেয়ে। তার পেটে বাচ্চা। কুকুরটা চাচ্ছে আত্মহত্যা করতে। সৃষ্টিকর্তা তাকে আত্মহত্যা করার হুকুম দেননি বলে সে বেচে আছে। ইচ্ছে করলে সেও তো সিড়ি বেয়ে সাততালার ছাদে উঠে লাফ দিয়ে মরে যেতে পারে।

বৃষ্টি এখন আর ঝুম অবস্থায় নেই। কিছুটা কমেছে। তবে ঠান্ডা বাতাস গায়ে লাগছে। মাঝে মাঝে দু একটা বজ্রপাত হচ্ছে। হটাত কারেন্ট চলে গেলো। ল্যাম্পোস্ট এখন আর জলছেনা। তাই কুকুরটাকেও দেখা যাচ্ছেনা। অন্ধকারে হটাত তানিয়ার মনে হলো কুকুরটা চিৎকার করে কাঁদছে। তার কান্না কেউ শুনছেনা।


বিষয়ঃ গল্প | ট্যাগসমূহঃ গল্প [ ৫৬৯ ] 569 [ ০ ] 0
  • শেয়ার করুনঃ
পাঠিয়ে দিনঃ

ব্লগারঃ মির কায়সার

ব্লগ লিখেছেনঃ ৫ টি
ব্লগে যোগদান করেছেনঃ ২ বছর পূর্বে

০ টি মন্তব্য ও প্রতিমন্তব্য

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করবার জন্য আপনাকে লগইন করতে হবে।
ব্লগের তথ্য
মোট ব্লগারঃ ৬৬ জন
সর্বমোট ব্লগপোস্টঃ ৯৩ টি
সর্বমোট মন্তব্যঃ ১২২ টি


ব্লগ | হিউম্যানস অব ঠাকুরগাঁও-এ প্রকাশিত সকল লেখা এবং মন্তব্যের দায় লেখক-ব্লগার ও মন্তব্যকারীর। কোন ব্লগপোস্ট এবং মন্তব্যের দায় কোন অবস্থায় 'ব্লগ | হিউম্যানস অব ঠাকুরগাঁও' কর্তৃপক্ষ বহন করবে না