লিখেছেনঃ
2019-11-22BDT22:15 কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়ার টেস্টে ঘটে যাওয়া বল টেম্পারিং এর ঘটনা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় চলছে। ঘটনার সূত্রপাত ৩য় দিনের মধ্যাহ্ন বিরতির সময়। তখন দক্ষিণ আফ্রিকার লিড ১০০ ছাড়িয়েছে। কতিপয় আস্ট্রেলিয়ান সিনিয়র ক্রিকেটার মিলে বল টেম্পারিং করার সিদ্ধান্ত নেন। দায়িত্ব দেওয়া হয় ‘অখ্যাত’ ওপেনার ক্যামেরন ব্যানক্রফট কে। লাঞ্চের পর, ৪৩ তম ওভারে টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে যায় ব্যানক্রফট-এর অনৈতিক প্রচেষ্টা। বল টেম্পারিং-এ ব্যাবহার করা হলুদ টেপ ট্রাউজারের লুকিয়ে ফেলার দৃশ্যও ধরা পরে যায় ক্যামেরায়।   তৃতীয় আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড নিজের লাউঞ্জে বসে সেই ফুটেজ দেখেই মাঠের আম্পায়ারদের নির্দেশ দেন ব্যানক্রফটকে ধরার। অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান সে সময়ের জন্য আম্পায়ারদের চোখে ধুলো দিলেও পরে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। সেখানে অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ বল টেম্পারিং বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত, তাঁর এবং সিনিয়র ক্রিকেটারদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। অপরাধের শাস্তি হিসেবে তাকে সকল ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয় দলের অধিনায়কত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বল টেম্পারিং কি?বল টেম্পারিং এর শাব্দিক অর্থ করলে দাঁড়ায়, অবৈধভাবে বলের অবস্থা পরিবর্তন করা। ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আইসিসি’র নিয়মবহির্ভূত যে কোনো পন্থায় বলের আকৃতি পরিবর্তন করলে বা করার চেষ্টা করলে তাকে বল টেম্পারিং বলে। কেন এই বল টেম্পারিং?বল টেম্পারিং মূলত ফাস্ট বোলারদের সুবিধা দেবার জন্য করা হয়ে থাকে। বিষয়টা বুঝবার জন্য ক্রিকেট বল এবং এর আচরণ সম্পর্কে আগে জানা প্রয়োজন। ক্রিকেট বল মূলত ভারী এবং দৃঢ় কর্ক জাতীয় বস্তু ও চামড়ার আবরণে তৈরি। দুটি চামড়ার টুকরার মাঝে একটি সেলাই থাকে। এই সেলাইটিকে সিম (seam) বলা হয়। এই সেলাইটাই সিম-বোলারদের সুইং করাতে সাহায্য করে। কিন্তু সময় গড়াতে গড়াতে এই সেলাই বা সিম তীক্ষ্ণতা হারায়। ফলে নতুন বলের মত সুইং পান না সিম বোলাররা। পুরোনো বলে সুইং করাতেই রিভার্স সুইং এর ধারণার উৎপত্তি। বল রিভার্স সুইং করানোর জন্য বোলার এবং ফিল্ডাররা বলের একটি পাশ ঘষতে থাকেন। ফলে একটি পাশ দ্রুত পুরোনো হয়, অন্য পাশটা তুলনামূলক নতুন থাকে। এতে যা হয়, বলের এক পাশে সহজে বাতাস চলাচল করে; অন্যদিকটায় বাতাস চলাচল ততোটা মসৃণ হয়না। যার ফলে, বলের দুই পৃষ্ঠে বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে বল হাওয়ায় থাকা অবস্থাতেই সুইং করে। দ্রুত গতির বলে বাতাসে এই সুইংকেই রিভার্স সুইং বলে। এই রিভার্স সুইং তাড়াতাড়ি পেতে বোলার বা ফিল্ডাররা অনেক সময় নিয়ম বহির্ভুত পন্থার আশ্রয় নেন(ধুলোমাটি, কাঁচের টুকরো দ্বারা বল ঘষা, একপাশ মসৃণ রাখতে মসৃণকারী পদার্থ ব্যবহার ইত্যাদি)। এছাড়াও পুরোনো বলে নতুন বলের মত সুইং পেতে অনেক সময় বলের সিম উঁচু করার চেষ্টা করেন খেলোয়াড়রা।(শহিদ আফ্রিদি বল কামড়ানোয় এবং ২০০১ সালে শচীন টেন্ডুলকারের বিরুদ্ধে এভাবে বল টেম্পারিং এর অভিযোগ উঠেছিলো) বিখ্যাত(পড়ুন কুখ্যাত) টেম্পারিং বল টেম্পারিং এর ইতিহাস ঘাটতে গেলে অনেকগুলো ঘটনা চোখে পড়ে। এঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ২০০১ সালে শচীন টেন্ডুল্কারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ।   আম্পায়ার লিটল মাস্টারের বিরুদ্ধে বলের সিম নখ দিয়ে খোঁটানোর অভিযোগ আনেন। শচীন এক ম্যাচ নিষিদ্ধও হন সেবার।সাম্প্রতিক সময়ে বল টেম্পারিং এর দায়ে একাধিকবার অভিযুক্ত হয়েছেন দক্ষিণ -আফ্রিকার ফ্যাফ-ডু-প্লেসি। ২০১৩ সালে জিপারে বল ঘষবার জন্য ম্যাচ ফি’র পঞ্চাশ শতাংশ জরিমানা গুনেন। আবার ২০১৬ সালে অভি্যগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। মুখ থেকে চুইংগাম বের করে বলে লাগানোর অভিযোগ ছিল সেটা। এবারো জরিমানা গুনতে হয় ডু-প্লেসিকে। এবার ম্যাচ ফি’র শতভাগ। বল টেম্পারিং এবং বাংলাদেশবল টেম্পারিং সংক্রান্ত কোন ঘটনা বাংলাদেশের ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যায়নি। সাম্প্রতিক টেম্পারিংএর ঘটনায় রুবেল এবং তাসকিন বল বিকৃতির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তবে আমাদের দেশের কতিপয় ক্রিকেট বিশেষ‘অজ্ঞের’ ধারণা -  বাংলাদেশের বোলাররা টেপমারিং এর মাধ্যমে সুবিধা নেবার যোগ্য বোলিং শিখতে পারেননি। তাদের জন্য একটা কথাই বলবার আছে, এশিয়া অঞ্চলে বর্তমান সময়ের দ্রুততম ৫জন বোলারের তালিকা করলে তাতে নিঃসন্দেহে আমাদের রুবেল এবং তাসকিন থাকবেন। তাই সক্ষমতার অভাবে নয়, সততার জোরেই বাংলাদেশ ক্রিকেট আজ টেম্পারিং এর কলঙ্কমুক্ত। ৭৫০ মার্চ ২৮, ২০১৮ ০৯:৫৮ অপরাহ্ন ১ বছর পূর্বে

কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়ার টেস্টে ঘটে যাওয়া বল টেম্পারিং এর ঘটনা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় চলছে। ঘটনার সূত্রপাত ৩য় দিনের মধ্যাহ্ন বিরতির সময়। তখন দক্ষিণ আফ্রিকার লিড ১০০ ছাড়িয়েছে। কতিপয় আস্ট্রেলিয়ান সিনিয়র ক্রিকেটার মিলে বল টেম্পারিং করার সিদ্ধান্ত নেন। দায়িত্ব দেওয়া হয় ‘অখ্যাত’ ওপেনার ক্যামেরন ব্যানক্রফট কে। লাঞ্চের পর, ৪৩ তম ওভারে টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে যায় ব্যানক্রফট-এর অনৈতিক প্রচেষ্টা। বল টেম্পারিং-এ ব্যাবহার করা হলুদ টেপ ট্রাউজারের লুকিয়ে ফেলার দৃশ্যও ধরা পরে যায় ক্যামেরায়।

 

তৃতীয় আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড নিজের লাউঞ্জে বসে সেই ফুটেজ দেখেই মাঠের আম্পায়ারদের নির্দেশ দেন ব্যানক্রফটকে ধরার। অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান সে সময়ের জন্য আম্পায়ারদের চোখে ধুলো দিলেও পরে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

সেখানে অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ বল টেম্পারিং বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত, তাঁর এবং সিনিয়র ক্রিকেটারদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। অপরাধের শাস্তি হিসেবে তাকে সকল ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয় দলের অধিনায়কত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বল টেম্পারিং কি?
বল টেম্পারিং এর শাব্দিক অর্থ করলে দাঁড়ায়, অবৈধভাবে বলের অবস্থা পরিবর্তন করা। ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আইসিসি’র নিয়মবহির্ভূত যে কোনো পন্থায় বলের আকৃতি পরিবর্তন করলে বা করার চেষ্টা করলে তাকে বল টেম্পারিং বলে।

কেন এই বল টেম্পারিং?
বল টেম্পারিং মূলত ফাস্ট বোলারদের সুবিধা দেবার জন্য করা হয়ে থাকে। বিষয়টা বুঝবার জন্য ক্রিকেট বল এবং এর আচরণ সম্পর্কে আগে জানা প্রয়োজন। ক্রিকেট বল মূলত ভারী এবং দৃঢ় কর্ক জাতীয় বস্তু ও চামড়ার আবরণে তৈরি। দুটি চামড়ার টুকরার মাঝে একটি সেলাই থাকে।

এই সেলাইটিকে সিম (seam) বলা হয়। এই সেলাইটাই সিম-বোলারদের সুইং করাতে সাহায্য করে। কিন্তু সময় গড়াতে গড়াতে এই সেলাই বা সিম তীক্ষ্ণতা হারায়। ফলে নতুন বলের মত সুইং পান না সিম বোলাররা। পুরোনো বলে সুইং করাতেই রিভার্স সুইং এর ধারণার উৎপত্তি। বল রিভার্স সুইং করানোর জন্য বোলার এবং ফিল্ডাররা বলের একটি পাশ ঘষতে থাকেন। ফলে একটি পাশ দ্রুত পুরোনো হয়, অন্য পাশটা তুলনামূলক নতুন থাকে। এতে যা হয়, বলের এক পাশে সহজে বাতাস চলাচল করে; অন্যদিকটায় বাতাস চলাচল ততোটা মসৃণ হয়না। যার ফলে, বলের দুই পৃষ্ঠে বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে বল হাওয়ায় থাকা অবস্থাতেই সুইং করে। দ্রুত গতির বলে বাতাসে এই সুইংকেই রিভার্স সুইং বলে।

এই রিভার্স সুইং তাড়াতাড়ি পেতে বোলার বা ফিল্ডাররা অনেক সময় নিয়ম বহির্ভুত পন্থার আশ্রয় নেন(ধুলোমাটি, কাঁচের টুকরো দ্বারা বল ঘষা, একপাশ মসৃণ রাখতে মসৃণকারী পদার্থ ব্যবহার ইত্যাদি)। এছাড়াও পুরোনো বলে নতুন বলের মত সুইং পেতে অনেক সময় বলের সিম উঁচু করার চেষ্টা করেন খেলোয়াড়রা।(শহিদ আফ্রিদি বল কামড়ানোয় এবং ২০০১ সালে শচীন টেন্ডুলকারের বিরুদ্ধে এভাবে বল টেম্পারিং এর অভিযোগ উঠেছিলো)


বিখ্যাত(পড়ুন কুখ্যাত) টেম্পারিং

বল টেম্পারিং এর ইতিহাস ঘাটতে গেলে অনেকগুলো ঘটনা চোখে পড়ে। এঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ২০০১ সালে শচীন টেন্ডুল্কারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ।

 

আম্পায়ার লিটল মাস্টারের বিরুদ্ধে বলের সিম নখ দিয়ে খোঁটানোর অভিযোগ আনেন। শচীন এক ম্যাচ নিষিদ্ধও হন সেবার।
সাম্প্রতিক সময়ে বল টেম্পারিং এর দায়ে একাধিকবার অভিযুক্ত হয়েছেন দক্ষিণ -আফ্রিকার ফ্যাফ-ডু-প্লেসি। ২০১৩ সালে জিপারে বল ঘষবার জন্য ম্যাচ ফি’র পঞ্চাশ শতাংশ জরিমানা গুনেন। আবার ২০১৬ সালে অভি্যগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। মুখ থেকে চুইংগাম বের করে বলে লাগানোর অভিযোগ ছিল সেটা। এবারো জরিমানা গুনতে হয় ডু-প্লেসিকে। এবার ম্যাচ ফি’র শতভাগ।

বল টেম্পারিং এবং বাংলাদেশ
বল টেম্পারিং সংক্রান্ত কোন ঘটনা বাংলাদেশের ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যায়নি।

সাম্প্রতিক টেম্পারিংএর ঘটনায় রুবেল এবং তাসকিন বল বিকৃতির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তবে আমাদের দেশের কতিপয় ক্রিকেট বিশেষ‘অজ্ঞের’ ধারণা - 

বাংলাদেশের বোলাররা টেপমারিং এর মাধ্যমে সুবিধা নেবার যোগ্য বোলিং শিখতে পারেননি। তাদের জন্য একটা কথাই বলবার আছে, এশিয়া অঞ্চলে বর্তমান সময়ের দ্রুততম ৫জন বোলারের তালিকা করলে তাতে নিঃসন্দেহে আমাদের রুবেল এবং তাসকিন থাকবেন। তাই সক্ষমতার অভাবে নয়, সততার জোরেই বাংলাদেশ ক্রিকেট আজ টেম্পারিং এর কলঙ্কমুক্ত।


বিষয়ঃ খেলাধুলা | ট্যাগসমূহঃ প্রবন্ধ খেলাধুলা [ ৭৫০ ] 750 [ ০ ] 0
  • শেয়ার করুনঃ
পাঠিয়ে দিনঃ

ব্লগারঃ মোহাম্মদ মাহির আবরার

ব্লগ লিখেছেনঃ ২ টি
ব্লগে যোগদান করেছেনঃ ১ বছর পূর্বে

০ টি মন্তব্য ও প্রতিমন্তব্য

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করবার জন্য আপনাকে লগইন করতে হবে।
ব্লগের তথ্য
মোট ব্লগারঃ ৬৬ জন
সর্বমোট ব্লগপোস্টঃ ৯৩ টি
সর্বমোট মন্তব্যঃ ১২২ টি


ব্লগ | হিউম্যানস অব ঠাকুরগাঁও-এ প্রকাশিত সকল লেখা এবং মন্তব্যের দায় লেখক-ব্লগার ও মন্তব্যকারীর। কোন ব্লগপোস্ট এবং মন্তব্যের দায় কোন অবস্থায় 'ব্লগ | হিউম্যানস অব ঠাকুরগাঁও' কর্তৃপক্ষ বহন করবে না