লিখেছেনঃ
2021-09-19+0613:09   লাশের হিমাগারে ঢুকতেই শিঁড়দাড়ায় শীতল অনুভূতি বয়ে গেলো।এটা অবশ্য হিমাগারের নিম্নতাপমাত্রার জন্যেও হতে পারে।আমি একজন মেডিকেল অফিসার।পেশাগত দ্বায়িত্বের খাতিরে এর আগেও বহুবার আমাকে এখানে আসতে হয়েছে।প্রথম প্রথম নিথর মরাদেহগুলো দেখে খুব কষ্ট হতো এটা ঠিক তবে ভয় আমার কখনোই লাগে নি।কিন্তু আজ ভয় লাগছে,প্রচন্ড ভয় লাগছে।হৃদপিন্ডের গতি বেড়ে গেছে বুঝতে পারছি। হিমঘরের নিম্ন তাপমাত্রাতেও আমি কুলকুল করে ঘামছি। লাশ রাখার ফ্রিজগুলোর ইঞ্জিন থেকে গুমগুম শব্দ হচ্ছে।শব্দটা স্নায়ুকে দূর্বল করে দিচ্ছে আরো।   কাঁপতে কাঁপতে সামনে এগোচ্ছি।আমার দুপাশে দুজন ডিউটি পুলিশ,পেছনে আমার সহকর্মী।কোনার ফ্রীজটার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম।পুলিশ দুজন তিন  নম্বর তাকটা টেনে বের করলো।এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো আমি অজ্ঞান হয়ে যাবো। কবীরের দেহটা নিথর হয় পড়ে আছে।মুখের উপর হালকা হালকা বরফ কুচি।চোখ বন্ধ।আবছা আলোয় ওর লাশটা নীলচে লাগছে।এই মানুষটার সাথে দুদিন আগেও আমি রিকশায় ঘুরেছি। আজ ও হিমঘরে।ওকে মাটি দেয়া হবে একটু পর।আত্নীয়-স্বজনরা লাশ নিতে এসেছে।আমি আর  কিছু ভাবতে পারছি না।আমার শরীর অবশ হয়ে আসছে।চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলাম!  রিংটোন বাজছে।আমি ধড়মড় করে লাফিয়ে উঠলাম।স্বপ্ন দেখছিলাম এতোক্ষণ।বালিশ ভিজে একাকার হয়ে গেছে।মাঝে মাঝেই কবীরকে নিয়ে এরকম দুঃস্বপ্ন দেখি। ঘুমের মধ্যেই কেঁদেকেটে একাকার হই ।আমি যতই অস্বীকার  করি না কেন কোথায় যেনো একটা টান রয়ে গেছে ওর প্রতি।অথচ কবীর দিব্যি ওর সুন্দরী বউ নিয়ে সুখে আছে! জোর করে ফিক করে হেসে দিলাম আমি। অন্যের বরকে ভেবে কষ্ট পাবার মানে নেই। কল বেজেই যাচ্ছে।মা ফোন দিয়েছে। কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।কেটে দিয়ে পাশ ফিরে শুলাম।দেখি বাপ্পী বিছানায় নেই।বুঝলাম প্রতিদিনের মতো আজকেও কবীরকে নিয়ে খারাপ স্বপ্ন দেখে ঘুমের ঘোরে উল্টাপাল্টা বকেছি আর কেঁদেছি।বাপ্পী সেটা শুনে বেলকনিতে গিয়ে চুপচাপ বসে বসে আছে। দেয়ালঘড়ির দিকে তাকালাম। সাড়ে ন'টা বাজে...   চলবে(To be continued)... :p     ৫২৭ মার্চ ০২, ২০১৭ ০৫:৩১ অপরাহ্ন ৪ বছর পূর্বে

 

লাশের হিমাগারে ঢুকতেই শিঁড়দাড়ায় শীতল অনুভূতি বয়ে গেলো।এটা অবশ্য হিমাগারের নিম্নতাপমাত্রার জন্যেও হতে পারে।আমি একজন মেডিকেল অফিসার।পেশাগত দ্বায়িত্বের খাতিরে এর আগেও বহুবার আমাকে এখানে আসতে হয়েছে।প্রথম প্রথম নিথর মরাদেহগুলো দেখে খুব কষ্ট হতো এটা ঠিক তবে ভয় আমার কখনোই লাগে নি।কিন্তু আজ ভয় লাগছে,প্রচন্ড ভয় লাগছে।হৃদপিন্ডের গতি বেড়ে গেছে বুঝতে পারছি। হিমঘরের নিম্ন তাপমাত্রাতেও আমি কুলকুল করে ঘামছি। লাশ রাখার ফ্রিজগুলোর ইঞ্জিন থেকে গুমগুম শব্দ হচ্ছে।শব্দটা স্নায়ুকে দূর্বল করে দিচ্ছে আরো।

 

কাঁপতে কাঁপতে সামনে এগোচ্ছি।আমার দুপাশে দুজন ডিউটি পুলিশ,পেছনে আমার সহকর্মী।কোনার ফ্রীজটার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম।পুলিশ দুজন তিন  নম্বর তাকটা টেনে বের করলো।এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো আমি অজ্ঞান হয়ে যাবো। কবীরের দেহটা নিথর হয় পড়ে আছে।মুখের উপর হালকা হালকা বরফ কুচি।চোখ বন্ধ।আবছা আলোয় ওর লাশটা নীলচে লাগছে।এই মানুষটার সাথে দুদিন আগেও আমি রিকশায় ঘুরেছি। আজ ও হিমঘরে।ওকে মাটি দেয়া হবে একটু পর।আত্নীয়-স্বজনরা লাশ নিতে এসেছে।আমি আর  কিছু ভাবতে পারছি না।আমার শরীর অবশ হয়ে আসছে।চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলাম!

 রিংটোন বাজছে।আমি ধড়মড় করে লাফিয়ে উঠলাম।স্বপ্ন দেখছিলাম এতোক্ষণ।বালিশ ভিজে একাকার হয়ে গেছে।মাঝে মাঝেই কবীরকে নিয়ে এরকম দুঃস্বপ্ন দেখি। ঘুমের মধ্যেই কেঁদেকেটে একাকার হই ।আমি যতই অস্বীকার  করি না কেন কোথায় যেনো একটা টান রয়ে গেছে ওর প্রতি।অথচ কবীর দিব্যি ওর সুন্দরী বউ নিয়ে সুখে আছে!

জোর করে ফিক করে হেসে দিলাম আমি। অন্যের বরকে ভেবে কষ্ট পাবার মানে নেই।

কল বেজেই যাচ্ছে।মা ফোন দিয়েছে। কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।কেটে দিয়ে পাশ ফিরে শুলাম।দেখি বাপ্পী বিছানায় নেই।বুঝলাম প্রতিদিনের মতো আজকেও কবীরকে নিয়ে খারাপ স্বপ্ন দেখে ঘুমের ঘোরে উল্টাপাল্টা বকেছি আর কেঁদেছি।বাপ্পী সেটা শুনে বেলকনিতে গিয়ে চুপচাপ বসে বসে আছে।

দেয়ালঘড়ির দিকে তাকালাম। সাড়ে ন'টা বাজে...

 

চলবে(To be continued)... :p

 

 


বিষয়ঃ গল্প | ট্যাগসমূহঃ গল্প [ ৫২৭ ] 527 [ ২ ] 2
  • শেয়ার করুনঃ
পাঠিয়ে দিনঃ

ব্লগারঃ আসিফ আহমেদ

ব্লগ লিখেছেনঃ ৫ টি
ব্লগে যোগদান করেছেনঃ ৪ বছর পূর্বে

২ টি মন্তব্য ও প্রতিমন্তব্য

অর্বাচীন উজবুক

March 04, 2017 07:10 AM , ৪ বছর পূর্বে
?? ভালো লিখসো। চালায় যাও।
প্রতিমন্তব্য (লগইন)

আসিফ আহমেদ
Mar 04, 2017 09:26 AM , ৪ বছর পূর্বে
সবই তোমাদের অনুপ্রেরনায়।।।।☺☺

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করবার জন্য আপনাকে লগইন করতে হবে।
ব্লগের তথ্য
মোট ব্লগারঃ ৬৮ জন
সর্বমোট ব্লগপোস্টঃ ৯৬ টি
সর্বমোট মন্তব্যঃ ১২২ টি

আজ রবিবার, সময় ০১:০৯ অপরাহ্ন
আশ্বিন ৪, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
অনলাইনে আছেন


ব্লগ | হিউম্যানস অব ঠাকুরগাঁও-এ প্রকাশিত সকল লেখা এবং মন্তব্যের দায় লেখক-ব্লগার ও মন্তব্যকারীর। কোন ব্লগপোস্ট এবং মন্তব্যের দায় কোন অবস্থায় 'ব্লগ | হিউম্যানস অব ঠাকুরগাঁও' কর্তৃপক্ষ বহন করবে না