লিখেছেনঃ
2019-08-26BDT08:51 - তুমি কাদছো কেন জানো? কারন তুমি আমার করুনা চাও। তুমি কাদছো কারন তুমি চাও আমি তোমাকে বলি, 'আর কেদোনা'। কি নির্লজ্জ তোমার কান্নাগুলো চিন্তা করেছো? তোমার অশ্রুগুলো তোমার হাতে মুছতে চায়না। তারা আমাকে চায়। তোমার অশ্রুই যেখানে তোমার সাথে বেইমানি করছে দিনের পর দিন, সেখানে আমি তো অনেক দুরের । নীলা ফোন কেটে দিলো। সে আমাকে বুঝাতে চাচ্ছে যে সে আর নিতে পারছেনা আমার কথা গুলো। আমি জানি এখন তার কান্না থেমে যাবে। কিংবা আগের থেকে আরো বেড়ে যাবে। আমার তাতে কিছু যায় আসেনা। আমি আগা গোড়া আবেগহীন মানুষ। আবেগ জাতীয় বিষয়বস্তুকে আমি প্রাধান্য দি না। কারন আবেগ নামক জিনিসটার অস্তিত্বই নেই। আমার একজন বন্ধু আছে। জয়। আমার সমস্ত কথা ও গিলে খায়। আবেগ জাতীয় ব্যপারে একদিন জয় আমাকে জিজ্ঞেস করলো,- তুই আসলেই আবেগে বিশ্বাসী না?- না।- তোর মনের কোনো অংশেই আবেগ নেই?- শুধু আমার মনে কেন? কারো মনেই আবেগের কোনো অস্তিত্ব নেই।- তোর প্রতি তোর বাবা মার যে ভালোবাসা, সেটাকে তোর কাছে আবেগ মনে হয়না?- না। তারা ভালোবাসে।- ভালোবাসা কি আবেগের একটা অংশ না?- না। আবেগ জাতীয় ব্যপারের আগে পিছে কিছু থাকে না। কিন্তু ভালোবাসার আগে পিছে লেনদেন জাতীয় রীতিনীতি জড়িত। আমার বাবা মা আমাকে ভালোবাসে কারন বিনিময়ে তারা আমার থেকে আদর্শ সন্তানের সার্টিফিকেট পেতে চায়। জয় সেদিন মাথা ঝাকাতে ঝাকাতে বাসায় চলে গিয়েছিলো। ওর ফেসবুকে লেখালেখির অভ্যাস আছে। আমি মোটামুটি নিশ্চিত, এ বিষয়ে সে আরো কিছু ঘাটাঘাটি করে নিজের মতো করে কিছু বানিয়ে ফেলেছে। ঘাটাঘাটির ব্যপারটা ও ভালো পারে। আমি পারিনা। আমি পথের মাঝে ডুবে থাকতে পছন্দ করি। ডুবে থাকার বিষয়ে আমার ওস্তাদ আমাকে বলেছিলেন, " এই বিশ্বভ্রম্মান্ডে তুই আমি আমরা সকলেই ডুবুরী। " তার এই কথার অর্থ ছিলো আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো কিছুতে ডুবে আছি। তবে ডূব মেরে আমরা কেউই বসে নেই। আমরা কিছু না কিছু খুজছি। হয়তো মৃত লাশ, হয়তো জাহাজের ধ্বংসাবশেষ কিংবা গুপ্তধন। তবে পার্থক্য হলো, বাস্তব ডুবুরীরা জানে তারা কি খুজছে, আমরা কেউই জানিনা আমরা কি খুজছি। আমি জানিনা আমি পথে পথে কি খুজছি। নীলা জানেনা নীলা আমার কাছে কি খুজছে। সৃষ্টিকর্তা এক ভয়ঙ্কর ফুটবল খেলার মাঠে আমাদের ছেড়ে দিয়েছেন। আমরা সবাই ভাবছি, বলটা অন্য কারো পায়ে। তাই তার পিছু ছুটছি। সেও ছুটছে আরেকজনের পিছে। আচ্ছা বলটার নাম কি? সুখ নাকি মৃত্যু? ফোন বাজছে। নীলা ফোন করেছে। আমি ফোন ধরে বললাম,- তুমি কি চাও? সুখ নাকি মৃত্যু?ওপাশ থেকে নীলার নিঃশ্বাসের বাতাস পাওয়া গেলো। এটা বোধহয় কান্না অনেক কষ্টে থেমেছে বোঝানোর জন্য। ২৫৫ অগাস্ট ১২, ২০১৭ ০৬:৫৮ অপরাহ্ন ২ বছর পূর্বে

- তুমি কাদছো কেন জানো? কারন তুমি আমার করুনা চাও। তুমি কাদছো কারন তুমি চাও আমি তোমাকে বলি, 'আর কেদোনা'। কি নির্লজ্জ তোমার কান্নাগুলো চিন্তা করেছো? তোমার অশ্রুগুলো তোমার হাতে মুছতে চায়না। তারা আমাকে চায়। তোমার অশ্রুই যেখানে তোমার সাথে বেইমানি করছে দিনের পর দিন, সেখানে আমি তো অনেক দুরের ।

নীলা ফোন কেটে দিলো। সে আমাকে বুঝাতে চাচ্ছে যে সে আর নিতে পারছেনা আমার কথা গুলো। আমি জানি এখন তার কান্না থেমে যাবে। কিংবা আগের থেকে আরো বেড়ে যাবে। আমার তাতে কিছু যায় আসেনা। আমি আগা গোড়া আবেগহীন মানুষ। আবেগ জাতীয় বিষয়বস্তুকে আমি প্রাধান্য দি না। কারন আবেগ নামক জিনিসটার অস্তিত্বই নেই। আমার একজন বন্ধু আছে। জয়। আমার সমস্ত কথা ও গিলে খায়। আবেগ জাতীয় ব্যপারে একদিন জয় আমাকে জিজ্ঞেস করলো,
- তুই আসলেই আবেগে বিশ্বাসী না?
- না।
- তোর মনের কোনো অংশেই আবেগ নেই?
- শুধু আমার মনে কেন? কারো মনেই আবেগের কোনো অস্তিত্ব
নেই।
- তোর প্রতি তোর বাবা মার যে ভালোবাসা, সেটাকে তোর কাছে
আবেগ মনে হয়না?
- না। তারা ভালোবাসে।
- ভালোবাসা কি আবেগের একটা অংশ না?
- না। আবেগ জাতীয় ব্যপারের আগে পিছে কিছু থাকে না। কিন্তু
ভালোবাসার আগে পিছে লেনদেন জাতীয় রীতিনীতি জড়িত।
আমার বাবা মা আমাকে ভালোবাসে কারন বিনিময়ে তারা আমার
থেকে আদর্শ সন্তানের সার্টিফিকেট পেতে চায়।

জয় সেদিন মাথা ঝাকাতে ঝাকাতে বাসায় চলে গিয়েছিলো। ওর ফেসবুকে লেখালেখির অভ্যাস আছে। আমি মোটামুটি নিশ্চিত, এ বিষয়ে সে আরো কিছু ঘাটাঘাটি করে নিজের মতো করে কিছু বানিয়ে ফেলেছে। ঘাটাঘাটির ব্যপারটা ও ভালো পারে। আমি পারিনা। আমি পথের মাঝে ডুবে থাকতে পছন্দ করি। ডুবে থাকার বিষয়ে আমার ওস্তাদ আমাকে বলেছিলেন,

" এই বিশ্বভ্রম্মান্ডে তুই আমি আমরা সকলেই ডুবুরী। "

তার এই কথার অর্থ ছিলো আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো কিছুতে ডুবে আছি। তবে ডূব মেরে আমরা কেউই বসে নেই। আমরা কিছু না কিছু খুজছি। হয়তো মৃত লাশ, হয়তো জাহাজের ধ্বংসাবশেষ কিংবা গুপ্তধন। তবে পার্থক্য হলো, বাস্তব ডুবুরীরা জানে তারা কি খুজছে, আমরা কেউই জানিনা আমরা কি খুজছি। আমি জানিনা আমি পথে পথে কি খুজছি। নীলা জানেনা নীলা আমার কাছে কি খুজছে। সৃষ্টিকর্তা এক ভয়ঙ্কর ফুটবল খেলার মাঠে আমাদের ছেড়ে দিয়েছেন। আমরা সবাই ভাবছি, বলটা অন্য কারো পায়ে। তাই তার পিছু ছুটছি। সেও ছুটছে আরেকজনের পিছে। আচ্ছা বলটার নাম কি? সুখ নাকি মৃত্যু?

ফোন বাজছে। নীলা ফোন করেছে। আমি ফোন ধরে বললাম,
- তুমি কি চাও? সুখ নাকি মৃত্যু?
ওপাশ থেকে নীলার নিঃশ্বাসের বাতাস পাওয়া গেলো। এটা বোধহয় কান্না অনেক কষ্টে থেমেছে বোঝানোর জন্য।


বিষয়ঃ গল্প | ট্যাগসমূহঃ গল্প প্রবন্ধ [ ২৫৫ ] 255 [ ০ ] 0
  • শেয়ার করুনঃ
পাঠিয়ে দিনঃ

ব্লগারঃ মির কায়সার

ব্লগ লিখেছেনঃ ৫ টি
ব্লগে যোগদান করেছেনঃ ২ বছর পূর্বে

০ টি মন্তব্য ও প্রতিমন্তব্য

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করবার জন্য আপনাকে লগইন করতে হবে।
ব্লগের তথ্য
মোট ব্লগারঃ ৬৬ জন
সর্বমোট ব্লগপোস্টঃ ৯৩ টি
সর্বমোট মন্তব্যঃ ১২২ টি


ব্লগ | হিউম্যানস অব ঠাকুরগাঁও-এ প্রকাশিত সকল লেখা এবং মন্তব্যের দায় লেখক-ব্লগার ও মন্তব্যকারীর। কোন ব্লগপোস্ট এবং মন্তব্যের দায় কোন অবস্থায় 'ব্লগ | হিউম্যানস অব ঠাকুরগাঁও' কর্তৃপক্ষ বহন করবে না